নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে বহু বাড়ি-সেতু

নেপালের গোর্খা জেলায় পাহাড়ি ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ৩৫টিরও বেশি বাড়িঘর এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে। বুড়ি গণ্ডকী নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পানি উপচে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে।

রোবিবার (১১ অক্টোবর) দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আকস্মিক এই বন্যায় নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্যাম্পও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ১,৪৫৭ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। নতুন দুর্যোগ দেশটিতে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

গোর্খা জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, চুমনুব্রি গ্রামের কাছে নদীটির পানি হঠাৎ বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে অন্তত এক ডজন পাকা বাড়ি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুলন্ত সেতু এবং হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্পের ক্যাম্প সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীটি পুরোপুরি কালো ও ধূসর হয়ে গেছে এবং ঘন কাদা ও আবর্জনা নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুড়ি গণ্ডকী নদীটি ভাটিতে গিয়ে ত্রিশূলী নদীর সাথে মিলিত হওয়ায় নেপাল প্রশাসন গোর্খা ছাড়াও তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপরাসী এবং পশ্চিম নাওয়ালপরাসী জেলার নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


ঝুঁকিপূর্ণ আরুঘাট শহর থেকে ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই আকাশ ও স্থলপথে বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। কাঠমান্ডু থেকে একটি বিশেষ ‘কুইক রিঅ্যাকশন টিম’ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছায়।

ভূমিধসের চরম ঝুঁকিতে থাকা ‘জাগাত’ নামক দুর্গম এলাকা থেকে নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের সাহায্যে ৬ জন আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুরো অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।