রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও টেন্ডার জট: বাড্ডা এখন ময়লার ভাগাড়!

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চরম উদাসীনতায় পূর্ব বাড্ডার পোস্ট অফিস গলি থেকে কবরস্থান রোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে এই এলাকায় সিটি করপোরেশনের কোনো বর্জ্যের গাড়ি বা ভ্যান সার্ভিস না আসায় প্রতিটি বাসাবাড়ির সামনে, সড়কে, এমনকি বেজমেন্ট ও গাড়ির গ্যারেজেও ময়লার স্তূপ জমে গেছে। কোথাও কোথাও বর্জ্য পচে দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ছে, বাতাসে উড়ছে মাছি। 

এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই এলাকার মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষজন দৈনন্দিন কাজকর্ম সারছেন। যেমন পোস্ট অফিস গলির একটি রিকশা গ্যারেজে চারজন চালক যখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন, ঠিক তার পাশেই রাখা গলা অবধি পূর্ণ ময়লার ড্রাম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। অথচ এই নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে সিটি করপোরেশনের কোনো তৎপরতা নেই, উল্টো তারা পুরো দায় চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপর।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এলাকায় নতুন করে বর্জ্য অপসারণের টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এলাকাবাসী কীভাবে থাকবে, সে বিষয়ে তারা আগে থেকে কাউকে কিছু জানানোর প্রয়োজনও মনে করেনি।

ডিএনসিসির উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়াকে এই সংকটের কথা জানানো হলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধানের সময় না জানিয়ে উল্টো পরামর্শ দেন, এলাকাবাসী যেন আপাতত নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ভ্যান ভাড়া করে ময়লাগুলো মূল ভাগাড়ে ফেলে আসেন। সিটি করপোরেশনের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্যে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।

বাস্তবে নিজ দায়িত্বে ময়লা ফেলতে গিয়ে আর্থিক ও নানামুখী ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খাবারের মেস মালিক মো. সালাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়ি বর্জ্য নিলে মাসে ২০০ টাকা দিতে হয়। কিন্তু গাড়ি না আসায় সপ্তাহখানেক ময়লা জমার পর তিনি বাধ্য হয়ে ১৫০ টাকা দিয়ে ভ্যান ভাড়া করে সিটি করপোরেশনের ভাগাড়ে ময়লা ফেলে আসেন। এতে শুধু অতিরিক্ত টাকাই খরচ হয়নি, ভাগাড়ে যাওয়ার পর তার ৮০০ টাকা মূল্যের ময়লা ফেলার ড্রামটিও চুরি হয়ে গেছে।

অন্যদিকে কবরস্থান রোডের বাসিন্দা কামাল জানান, তিনি যথানিয়মে ২০০ টাকা বিল পরিশোধ করার পরও গত দুই সপ্তাহে কোনো ময়লার গাড়ি এলাকায় আসেনি। স্থানীয় বাড়িওয়ালা সালামের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই এই দুর্দশা শুরু হয়েছে এবং মূলত ময়লা বাণিজ্য নিয়ে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

বর্জ্য অপসারণের মতো একটি জরুরি ও নিত্যদিনের সেবা এভাবে বন্ধ থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন পরবর্তী টেন্ডার চূড়ান্ত করা হলো না? সিটি করপোরেশনের এই চরম খামখেয়ালিপনা ও গড়িমসির পেছনে যদি কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে থাকে, তবে তা অনতিবিলম্বে তদন্ত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

Attr
আরও পড়ুন