ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার-এই নীতিতে বিশ্বাস করেই বিএনপি রাজনীতি করে। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকবে, ধর্মের জায়গায় ধর্ম থাকবে; কিন্তু রাষ্ট্র সবার।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইল ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন, মহালয়া উদযাপন এবং বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ দূর করে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার সময় তার স্বপ্ন ছিল, দেশে আর রাজপথে মিছিলে গুলি চলবে না, কেউ না খেয়ে মারা যাবে না, থাকবে না শোষণ-নিষ্পেষণ। দেশের মানুষ নিজেরাই গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করবেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর অন্যতম কারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে, কেউ রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হয়েছেন। এসব বিভেদ দূর করে রাজনীতি ও ধর্মকে নিজ নিজ জায়গায় রাখতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ধৈর্য ধরতে হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় আসবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা ছাড়বে—এই ব্যবস্থা অটুট রাখা জরুরি। আগের সরকারকে বারবার এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এখনো রাষ্ট্রের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। আবারও দেশকে সংকটে ফেলার চেষ্টা চলছে। তাই গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় না এলে দেশের পরিস্থিতি কী হতো, তা সবাইকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মসজিদে অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি পূজামণ্ডপেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মের ইমামদের ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি পুরোহিতদেরও ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি, বাঙালি ও সমতলের মানুষসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান-সব ধর্মের মানুষের দেশ। সবাইকে সমান অধিকার নিয়ে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, সনাতন পার্টি, বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করবে। তবে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশ ও অর্থনীতি এগিয়ে গেলে তার সুফল সবাই পাবেন।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ডিএসসিসির পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে আলাদাভাবে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপের আশপাশে রাস্তা খারাপ থাকলে দুই দিনের মধ্যে তা মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কোথাও সড়কবাতি নষ্ট থাকলে, ড্রেনেজ সমস্যা কিংবা শৃঙ্খলার ঘাটতি থাকলেও তা সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে তবুও শেখ হাসিনা ফিরবে না: রাশেদ খাঁন
এবার কানাডিয়ান ‘পুলিশ কর্মকর্তা’র সাজে জায়েদ খান, রহস্য কি!
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু