বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের আর্তনাদ

আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ০২:২৬ পিএম

মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক শত শত যাত্রী টিকিট না পেয়ে বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়ছেন। টিকিটের আশায় শুক্রবার (৩১ মে) সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে জড়ো হতে থাকেন তারা। এতে মালয়েশিয়া যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। টিকিট না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, দেশটি আপাতত আর শ্রমিক নেবে না। যারা অনুমোদন পেয়েছেন, ভিসা পেয়েছেন, তাদের ৩১ মে, শুক্রবারের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে হবে। এ সিদ্ধান্তের কারণেই শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এর সামনে দাড়িয়ে ছিলেন মেহেরপুরের আবু তায়েব। তার চোখে-মুখে হতাশা ও ক্লান্তির ছাপ। কাছে যেতেই বললেন, আমি কৃষিকাজ করি। সচ্ছলতার আশায় মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্যোগ নেই। সেজন্য ঋণ করে টাকা জোগাড় করি। দালালের কথা মতো স্বজনদের কাছ থেকে বিদায়ও নিয়ে এসেছি। শনিবার (১ জুন) দুপুরে ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। টিকেটও হাতে পাই। বিদেশে যেতে না পারলে কীভাবে সংসার চালাব, ঋণ পরিশোধ করব?’

মেহেরপুরের আবু তায়েবের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে (রিক্রুটিং এজেন্সি) টাকা দেওয়া বহু মানুষ শুক্রবার (৩১ মে) একই বিপদে পড়েন।

যারা বিমানের টিকিট পেয়েছেন, তারা ভোগান্তি সয়ে দেশ ছেড়েছেন। আর যারা রিক্রুটিং এজেন্সি এবং দালালকে লাখ লাখ টাকা দিয়েও টিকিট পাননি, তারা বিমানবন্দরে আহাজারি করেন। ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের বিমান ভাড়া ২৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে লাখ টাকা করা হয়।

শুক্রবার প্রায় আট গুণ বেশি দামে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকায়ও টিকিট বিক্রি হয়। এদিকে একই হতাশায় জর্জরিত নরসিংদীর হেলিম মিয়া। তারও শনিবার দুপুরে ফ্লাইট ছিল। এজন্য নরসিংদী থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে বিমানবন্দরে আসেন। হেলিমের চোখে মুখে ছিল হতাশার ছাপ। মানুষের কাছে টাকা ধার করেছেন। আবার কিছু জমিও বিক্রি করেছেন।

MB/FI
আরও পড়ুন