‘মৌখিক নির্দেশে’ সিসি ক্যামেরা কিনে ফাঁদে ৭১ প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার অজুহাতে প্রশাসনিক ‘মৌখিক নির্দেশে’ সিসিটিভি ক্যামেরা কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের তাগিদে বাকিতে ক্যামেরা কেনা হলেও নির্বাচন শেষে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে অস্বীকার করছে বর্তমান জেলা প্রশাসন।

দোকানিদের পাওনা মেটাতে এখন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ ও ধার-দেনা করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকমণ্ডলী, যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও মনিটর বসানো হলেও অধিকাংশ খরচের টাকা এখনও মেলেনি।

পরবর্তীতে ইউএনও কার্যালয় থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা মোট খরচের তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম।

কেদারগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষা অফিসের চাপে ৪৫ হাজার টাকায় ক্যামেরা বসালেও তারা পান মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

একইভাবে সুমিরদিয়া পুটি মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৩১ হাজার টাকার মধ্যে ১৫ হাজার পেলেও রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও কোনো টাকাই পায়নি।

শিক্ষকরা জানান, সিসি ক্যামেরা বসানোর কোনো লিখিত সরকারি আদেশ ছিল না; শিক্ষা কর্মকর্তারা ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে দ্রুত কাজ শেষের মৌখিক নির্দেশনা দেন।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে তৎকালীন রিটার্নিং অফিসারের মৌখিক নির্দেশেই এই সরঞ্জাম কেনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

তথ্য অধিকার আইনে জানতে চাওয়া হলে বর্তমান জেলা প্রশাসক কার্যালয় জানায়, নির্বাচনকালীন সিসিটিভি ক্যামেরা কেনা বা নির্দেশ দেওয়ার কোনো লিখিত নথিপত্র তাদের কাছে নেই।

বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁদের যোগদানের আগের হওয়ায় এবং লিখিত প্রমাণ না থাকায় তাঁরা এর দায় নিতে পারছেন না।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন দ্বিমুখী আচরণে দিশেহারা চুয়াডাঙ্গা সদরের ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন এই সমস্যার দ্রুগ সমাধান ও সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

HN
আরও পড়ুন