কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমের স্ত্রী নার্স লেলসমকিম বম ও অপর এক সিনিয়র নার্সকে রুমা হাসপাতাল থেকে লালমনিরহাটে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাদেরকে বান্দরবানের রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে লালমনিরহাটে স্ট্যান্ড রিলিজ (অবমুক্ত) করা হয়েছে। নতুন গজিয়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট কেএনএফের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই দুই নার্সের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপসচিব পরিচালক (প্রশাসন) মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, নার্সিং সেবা-১ শাখার ৮ এপ্রিল এক স্মারকের আলোকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স লেলসমকিম বমকে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। একই পত্রে, একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নার্স দীপালি বৈড়াকেও লালমনিরহাটের একই হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নার্সিং বিভাগ থেকে তাদের জরুরিভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
পত্রে আরও বলা হয়, বদলিকৃত সিনিয়র নার্সরা ৯ এপ্রিলের মধ্যে কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে যোগদান করবেন, তা না হলে ৯ এপ্রিল তারিখের বিকেলে স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য করা হবে।
বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান। তবে কি কারণে বা কেন স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এ বিষয়টি ওই নির্দেশনা পত্রে বলা হয়নি।
রুমা স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, স্ট্যান্ড রিলিজের কারণে ১০ এপ্রিল রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন লেলসমকিম বম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেএনএফ প্রধান নাথান বমের বাড়ি রুমা বাজারসংলগ্ন ইডেনপাড়া। যেখানে নাথান বমের কৈশোর কেটেছে। সেখানে কাঁচা-পাকা একটি টিনশেড ঘরে থাকতেন নাথান বম। নাথানের মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। নাথানের স্ত্রী লেলসমকিম বম, তাঁদের দুই সন্তান স্কেন্ডি বম (৫) ও স্কলার বম (১৫)। স্কলার বর্তমানে ভারতের মিজোরামে মামার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করছে। স্কেন্ডি স্থানীয় একটি স্কুলে প্রাক্-প্রাথমিকে পড়ছে।
লেলসমকিম বম বলেন, ‘আমি চাই, আমার স্বামী সুস্থ জীবনে ফিরে আসুক। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, তার যাতে কিছু না হয়।’
গত ২রা এপ্রিল সশস্ত্র সংগঠন কুকিচিনের সদস্যরা রুমা উপজেলা সোনালী ব্যাংকে হানা দিয়ে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ১৪টি অস্ত্র ও ৪ শতাধিক গুলি লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার একদিন পরেই উপজেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে হানা দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলার ঘটনার সাথে তথ্য প্রদান ও সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে বম সম্প্রদায়ের অনেকেই জড়িত রয়েছে বলে এরকম একটি তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে যৌথ অভিযানে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কেএনএফের সদস্যসহ ৬১ জনকে। তারা সবাই জেল হাজতে রয়েছেন।
বর্তমানে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন ও লুট করা অস্ত্র উদ্ধারে রুমা থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় যৌথ বাহিনীর বোম্বিং অপারেশন চলছে। রুমা উপজেলার কয়েকটি পাড়া থেকে প্রায় ৪০ জন নারী পুরুষকে রুমা সদরে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২ ও ৩ এপ্রিল রুমা ও থানচিতে ব্যাংক লুট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪টি অস্ত্র লুট করেছিল কেএনএফ। এ ঘটনায় রুমায় ৪টি ও থানচিতে ৪টি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে রুমা-থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, অস্ত্র-টাকা লুটের ঘটনায় যৌথ অভিযানে আটক ৬১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
