সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি, চারিদিকে পানি থইথই করছে। রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি সবকিছুই তলিয়ে রয়েছে। এরমধ্যেই শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা। সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা পানি মাড়িয়ে নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারাদেশে ৩০ জুন থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন করে আর পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা বোর্ড। ফলে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক) বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জেলার ১৩টি উপজেলায় কমবেশি এলাকা এখনো প্লাবিত। এরমধ্যে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা এখনো প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে। এতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেকে নৌকাতে করে কেন্দ্রে আসতে হয়েছে। নির্ধারিত কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে পানি থাকার কারণে সেগুলো পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ভুল কেন্দ্রে চলে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পরীক্ষার্থী মারুফ আহমেদ জানান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য সকাল সাড়ে সাতটায় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। চারিদিকে পানি, আমাদের ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তায় হাঁটু পানি। পানি থেকে শুকনো জায়গায় যেন ভেজা প্যান্ট পরিবর্তন করতে পারি এজন্যে আরেকটি প্যান্ট ও লুঙ্গি ব্যাগে করে নিয়ে এসেছি।
ফেঞ্চুগঞ্জ কলেজের সামনে দাঁড়ানো একজন অভিভাবকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার এলাকায় আমার ঘর। দীর্ঘ একমাসের ওপর থেকে আমাদের ঘরের ভেতরে পানি। আমার ছেলে মাহিন এবার পরীক্ষা দিচ্ছে। ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারেনি।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩ হাজার ১২৮ পরীক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৭৯৩ জন ছাত্র ও ৪৯ হাজার ৩৩৫ জন ছাত্রী। এরমধ্যে সিলেটে ৩৫ হাজার ৮৪৯ পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে ১৫ হাজার ১৩৯ জন ছাত্র ও ২০ হাজার ৭১০ জন ছাত্রী। বোর্ডের অধীনে চার জেলায় মোট ৮৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৩৩টি, সুনামগঞ্জে ২২টি, মৌলভীবাজারে ১৪টি ও হবিগঞ্জে ১৮টি।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে জেলার ২৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে সোমবারের তথ্য অনুযায়ী ১১৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দিলওয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকে ১ হাজার ১৯৩ জনের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল সেখানে ১ হাজার ১৮২ জন উপস্থিত হয়েছে।
বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক মো. নূর-এ-আলম বলেন, যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছে সেগুলোর ভেতরের কোন পানি ছিল না। তবে কিছু কেন্দ্রের বাইরে পানি ছিল। পরীক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে ভালোভাবেই পরীক্ষা দিয়েছেন।
