কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে খাসজমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে মধ্যরাতে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সৈকতে প্রবেশের ডান পাশে ১০ একরের বেশি জমি টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকারদের। তাদের দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা।

শুক্রবার(১৪ আগস্ট)  মধ্যরাতে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক টিন ও বাঁশ দিয়ে জমিটি ঘেরাও করেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে ঘেরাওয়ের কাজ শেষ করা হয়। 

এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলও সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এদিকে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবৈধ ঘেরাও ও স্থাপনা অপসারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। সরকারি খাসজমি দখলের এ অভিযোগ এবং সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে অবৈধ স্থাপনা তৈরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা সৈকতের প্রবেশপথের ডান পাশে বড় একটি অংশ টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তবে কারা এ জমি ঘেরাও করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, ঘেরাও করা জমিটি এস আলম গ্রুপের বাতিলকৃত একটি প্লট। এ ছাড়া দখলকারীদের কয়েকজন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার জানান, ঘেরাওয়ের সময় ওই জমিতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান ছিল। মধ্যরাতে দোকান সরিয়ে জমিটি ঘেরাও করার সময় কয়েকজন হকারের সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হকাররা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ টিনের বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, মধ্যরাতে হঠাৎ করে এত বড় জায়গা ঘেরাও করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছি।

এদিকে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

স্থানীয় যুবদল নেতা আজিজুল হক সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সুগন্ধা পয়েন্টের সরকারি জমি কি আবারও দখলবাজদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে?’ একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় এই দখল হয়েছে। অথচ সারাদিন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যময়।’ 

পর্যটন শিল্পের বিকাশে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ বারবার ফুটে উঠছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসে, তাদের একটি অংশ সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় জায়গা দখল করে ঝুপড়ি দোকান নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

তবে জেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি জমি দখল বা ঘেরাও করার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলের ঘটনায় জড়িত একজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই স্থানের মালিকানা বা ইজারার পক্ষে কোনো বৈধ নথি থাকলে তা জেলা প্রশাসক অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।প্রশাসন কাউকে সরকারি জমি দখল বা ঘেরাও করার অনুমতি দেয়নি।

তানভীর হোসেন সায়েম আরও বলেন, অবৈধ অবকাঠামো ও টিনের বেড়া অপসারণের জন্য শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হলে জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা ও ঘেরাও সরিয়ে না নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

MCH
আরও পড়ুন