কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে রেকর্ড ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.), যিনি শাহ পীর কেল্লা বাবা নামে পরিচিত, তাঁর মাজারের ওরস উপলক্ষে খোলা চারটি দানবাক্সে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি এসব দানবাক্স থেকে স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। মাজারটির ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সের অর্থ এক কোটি টাকা ছাড়াল।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে চারটি দানবাক্স খোলা হয়। সেখান থেকে মোট ১২ বস্তা টাকা বের করা হয়। সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ কর্মকর্তা এবং মাজারের মাদরাসার অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মিলে টানা সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে টাকা গণনা করেন। রাত সাড়ে ৪টার দিকে গণনা শেষ হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গণনা করা পুরো অর্থ সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট থেকে সাত দিনব্যাপী বার্ষিক ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট গভীর রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরসের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলতে থাকে। এ সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও আশেকান মাজারের দানবাক্সগুলোতে নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রুপা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দান করেন।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (মিন্টু খাদেম) জানান, ২০২৩ সালে দানবাক্সে ৮৪ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং ২০২১ সালে ৬১ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে দানের অর্থ প্রথমবারের মতো কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মাজারটির বয়স প্রায় ৭০০ বছর। প্রতিবছর ওরসকে কেন্দ্র করে এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এবারও চারটি দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও করা হচ্ছে। এসব সামগ্রী বর্তমানে মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, চারটি দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা পাওয়া গেছে। দানবাক্স থেকে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবও করা হচ্ছে। সবকিছুর হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হওয়ার পর মাজারের সার্বিক আয়-ব্যয়ের বিষয়টি জানানো হবে।

MCH
আরও পড়ুন