অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিএনপি নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। 
 
শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভূঁইয়ার হাট বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) গভীর রাতে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিজান মাঝিকে তার নিজ বসতঘর থেকে কোস্টগার্ডের সদস্যরা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
 
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক মিজান মাঝি বিএনপির রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ী। ভূঁইয়ার হাটবাজার, হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট, বাংলাবাজারসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় তার মৎস্য, হার্ডওয়ার, টিন ও ইলেক্ট্রনিকস ব্যবসা রযেছে। এই অঞ্চলের মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তার দান-অনুদান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা অথবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোন অভিযোগ নেই। থানায় কোন মামলা নেই। অথচ বৃহস্পতিবার রাতে মিজান মাঝিকে ঘরের দরজা ভেঙে তার হাত-পা, চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা।অবিলম্বে আবু বক্কর সিদ্দিক মিজান মাঝির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন- ভূঁইয়ার হাটবাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, ব্যবসায়ী আহসান উল্ল্যাহ, আবুল খায়ের ‍ও আব্দুল করিম প্রমুখ।
 
আবু বক্কর সিদ্দিক মিজান মাঝির স্ত্রী আফরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে ৩০/৩৫ জন লোক তাদের ঘরের ৩টা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তারা নিজেদের কোস্টগার্ড পরিচয় দিয়ে তার স্বামী মিজান মাঝির হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলেন এবং তাদের ঘরের সমস্ত মালামাল ভেঙে তছনছ করেন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেন।
 
পরে তারা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাদের ঘরে কোন মালামাল লুট হয়নি ও তাদের কোন ক্ষতি করা হয়নি মর্মে মুঠোফোনে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যান।
 
মিজান মাঝির ছেলে শাহাদাত হোসেন রুবেল বলেন, ইতোপূর্বে তার বাবার বিরুদ্ধে চরজব্বর থানা অথবা অন্য কোথাও কোন মামলা বা অভিযোগ নেই। অথচ রাজনীতি ও ব্যবসায়িক কারণে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু লোক শত্রুতা করছে। তারা কোস্টগার্ডকে দিয়ে তার বাবাকে তুলে নিয়ে গেছেন। তার বাবা মিজান মাঝিকে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে নিয়ে গেলেও শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টা পর্যন্ত থানায় হস্তান্তর না করে অস্ত্র উদ্ধারের নামে নাটক সাজিয়ে অস্ত্র, ডাকাতিসহ বিভিন্ন খারাপ মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছেন। অভিলম্বে তিনি তার বাবার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, মিজান মাঝিকে আটক বা অভিযানের বিষয়ে কোস্টগার্ড আমাদের কিছুই জানায়নি। রাতে মিজান মাঝির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আমাদের জানানোর পর পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। কোস্টগার্ডের কাছে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আছে কিনা, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের থানায় তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নাই।
 
এদিকে আজ বিকেলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকতা লে. কমান্ডার বিএন মো. সিয়াম-উল-হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, নোয়াখালীর হাতিয়ার বাংলা বাজার মাছ ঘাটে আবু বক্কর সিদ্দিক ওরপে মিজান ডাকাত (৪৫) এর মাছের আড়তে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মধ্যরাত থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক ওরপে মিজান ডাকাতকে আটক করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরপে মিজানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাবাজার বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত তল্লাশি করে ৯টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ২৯টি হাত বোমা জব্দ করা হয়। আটককৃত ডাকাত ও জব্দকৃত সকল আলামতসহ তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
NJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত