ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নিজের পেটে নিজেই ছুরি ঢুকিয়ে মো. জুবায়ের ব্যাপারী (৩০) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পুটিয়া বাজার এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত জুবায়ের ব্যাপারী সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আক্কাস ব্যাপারীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং মৃগী রোগসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের পরিবার জানায়, জুবায়েরের শারীরিক অসুস্থতা দিন দিন জটিল আকার ধারণ করেছিল। সম্প্রতি তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। এসব শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যও ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে তিনি মাঝে মধ্যেই নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করতেন।
নিহতের বাবা আক্কাস ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই নানা রোগে ভুগছে। কিছুদিন ধরে তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছিল। পেট ফুলে গিয়েছিল। আমরা ধারণা করছি, সেই যন্ত্রণাই সহ্য করতে না পেরে সে নিজের পেটে নিজেই ছুরি ঢুকিয়ে দেয়।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পুটিয়া বাজারের এক দোকানদার মুরাদ হোসেন জানান, ‘সকালে তিনি তার দোকানে বেচা-কেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই জুবায়ের দোকানে রাখা পেঁয়াজ-মরিচ কাটার একটি ছুরি হাতে নেয়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে নিজের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। পরে তার বাবা দ্রুত এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে বাড়িতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, নিহত যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি নিজেই ছুরি দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

