টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দুই গ্রামবাসীর আবারও সংঘর্ষ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা উপেক্ষা করে শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ২য় দফায় মাইকিং করে সহিংসতার ডাক দেয় সংঘর্ষে জড়িতরা। 

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় নলীন বাজার, গোলপেঁচা ও জগৎপুরা এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

জানা গেছে, একটি দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ এপ্রিল গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন কালাম তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন। পরে তাদের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালাম তালুকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাতের বেলায় মাইকিং করে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় মধ্যরাতের পর গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান জানান, প্রথমে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও তা এখন একাধিক গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪৪ ধারা জারির পরও অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। 

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন