পাওনা টাকা চাওয়ায় ছুরিকাঘাত, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার ৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোকন (৪০) নামে এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। 
 
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ সুরাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
 
নিহত রোকন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভাবুন্দিয়া কালিকাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। অভিযুক্ত রাজিব (২১) একই এলাকার সিদ্দিকের ছেলে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভাবুন্দিয়া কালিকাবাড়ী এলাকায় রাজিবের সঙ্গে রোকনের দেখা হয়। পরিবারের দাবি, রাজিবের কাছে রোকনের কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজিব তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন সহযোগীর উপস্থিতিতে টিপ চাকু দিয়ে রোকনের পেটের নিচের বাম পাশে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।
 
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত রোকনকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। টানা নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রোকনের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মোহাম্মদ সুরাফ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। শুধু নিজের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাকে প্রাণ দিতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।’
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ সুরাফ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।
MCH/AHA
আরও পড়ুন