ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০০ এএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া মান্নান মাতুব্বর এবং পাশের সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।

এই বিরোধের জেরে শনিবার (২৯ আগস্ট) জিহাদপন্থি সোলায়মান মাতুব্বর বাজারে গেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সোলায়মান আহত হন।

খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোলায়মানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার ওপরও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জিহাদ আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন পরমেশ্বরদী গ্রামের ছরোয়ার খাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়ি থেকে পাট ও পেঁয়াজ লুট করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। পরে খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একদল লোকের সঙ্গে মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হলে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা বোয়ালমারীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই পক্ষের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এমইউ
আরও পড়ুন