যমুনা সেতু পার হয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের সাড়ে চার শতাধিক গাড়ি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুরমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শনিবার সকালে রাজধানী থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে পথসভা করে গাড়িবহরটি দুপুরের দিকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় পৌঁছায়।

টোল প্লাজা সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে লংমার্চের মূল গাড়িবহর টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এরপর বিভিন্ন লেন দিয়ে গাড়িগুলো টোল পরিশোধ করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাত্রা শুরু করে। দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটের মধ্যে মূল বহরের গাড়িগুলো সেতু পার হয়ে যায়।

এর আগে মূল বহরের সঙ্গে থাকা গাড়ির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবেও কয়েকটি গাড়ি সেতু পার হয়। আবার মূল বহর চলে যাওয়ার পরও লংমার্চের স্টিকারযুক্ত কিছু গাড়ি সেতু অতিক্রম করে। সব মিলিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে লংমার্চের গাড়িবহর সকাল সোয়া ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জালফৈ মোড়ে পৌঁছায়। সেখানে আয়োজিত পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের অন্য নেতারা।

টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে রংপুরের উদ্দেশে আবারও যাত্রা শুরু করে লংমার্চের গাড়িবহর। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কথা রয়েছে। পরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

১১ দলীয় ঐক্য এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে কয়েকটি দাবি সামনে এনেছিল। এর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও তেল-গ্যাস-সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দলীয় সংকীর্ণতা বন্ধের দাবি।

রংপুরের কর্মসূচিতে এসব দাবির সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও যুক্ত করা হয়েছে। জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা এর আগে জানিয়েছিলেন, ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন