‘মেয়ের বিচার চাইতে গিয়েছি, মব সৃষ্টি করতে নয়’: শিশুটির বাবা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শাহজালাল রুমি। এ সময় তিনি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

শাহজালাল রুমি বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি। তিনি জানান, গ্লাসটির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন।

মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানান এই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

শাহজালাল রুমি জানান, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। তবে সেখানে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন।

ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন শিশুটির বাবা। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার বিষয়ে তিনি তিন দিন আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ বারবার কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ ছাড়া অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শাহজালাল রুমি বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’

একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

এএম
আরও পড়ুন