নির্মাণের শুরু থেকেই বিকল পানি সরবরাহের গভীর নলকূপটি। নেই পুকুরগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও। নানা জটিলতায় বন্ধ প্রায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। এতে পোনা সংগ্রহে ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মৎস্য খামারিরা। দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ না নিলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে জেলার একমাত্র সরকারি হ্যাচারিটি।
উপজেলা মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে গোসাইরহাট উপজেলার বিনোটিয়া এলাকায় ৬ একর জায়গার উপর ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় গোসাইরহাট মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। হ্যাচারিটিতে পোনা উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয় ২৪ হাজার বর্গফুটের ৩টি ও ১৫ হাজার বর্গফুটের ৪টি চৌবাচ্চা। এছাড়াও কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্সের রেণু ও পোনা উৎপাদনের জন্য বসানো হয় ৬টি রেণু উৎপাদন সিলিন্ডার। তবে চালুর পর থেকে বিকল হয়ে পড়ে রেণু ও পোনা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পানি সরবরাহের একমাত্র সাবমার্সিবল পাম্পটি। এতে বন্ধ হয়ে যায় রেণু ও পোনা উৎপাদনের ৬টি সিলিন্ডার। পরবর্তীতে বিকল্প উপায়ে পানি এনে সচল রাখা হয় মাত্র ২টির সিলিন্ডারের উৎপাদন।
পানি সরবরাহের অভাবে কারণে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রেণু পোনাও উৎপাদন করতে পারছেনা এই প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মিত ৭টি জলাশয়ের সবগুলোর গভীরতা বেশি হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পোনা উৎপাদন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি চৌবাচ্চায় জমে উপচে পড়ে ভেসে যায় মাছের পোনা।
বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মচারী বিল্লাল হোসেন বলেন, পোনা উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পানি। তবে আমাদের রেণু পোনা উৎপাদনের জন্য বসানো বড় পাম্পটি শুরু থেকেই নষ্ট। এজন্য আমরা পানির অভাবে ৬টি সিলিন্ডারের মধ্যে মাত্র ২টি সিলিন্ডার চালু রেখেছি। এজন্য আমরা মৎস্য চাষীদের প্রয়োজন মতো পোনা সরবরাহ করতে পারি না। যদি বড় পাম্পটি সচল করে সবগুলো সিলিন্ডারে পোনা উৎপাদন করা যেতো আমরা শরীয়তপুরের পাশাপাশি অন্যান্য জেলাগুলোতেও সরকারি দামে কার্প মাছের পোনা সরবরাহ করতে পারতাম।
কামাল হোসেন নামের আরেক কর্মচারী বলেন, আমাদের পুকুরটি আরসিসি ঢালাই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যখন বৃষ্টি হয় আমাদের মাঠের সব পানি পুকুরে গিয়ে পড়ে। এতে পুকুরের পানি বেশি হয়ে গিয়ে মাছগুলো বাইরে চলে যায়। তাছাড়া পানি বেশি থাকায় মাছগুলোর স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করার সুযোগ থাকেনা। যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা যেতো এবং আমাদের মাছ উৎপাদনে সুবিধা হতো।
স্থানীয় মৎস্য চাষি শাহিদা বেগম বলেন, আমার বাড়ির পাশে এই হ্যাচারি হওয়া সত্ত্বেও আমরা এখান থেকে পোনা কিনতে পারি না, কারণ এখানে পানির কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকে। যদি এখান থেকে পোনা পাওয়া যেতো তাহলে আমরা সরকারি দামে কিনতে পারতাম। এতে আমাদের গাড়িভাড়াও অনেকটাই কমে আসতো। আমরা চাই দ্রুত এখানে সমস্যা সমাধান করে পোনা উৎপাদন বড় পরিসরে করা হোক।
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, অবকাঠামোর নির্মাণগত ত্রুটির কারণে মাছের রেণু ও পোনা উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পানির পাম্পটি নষ্ট থাকায় আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ পোনা উৎপাদন করতে পারছি না। তাছাড়া পুকুরগুলোর গভীরতা বেশি হওয়ায় তাতেও আমাদের সমস্যা হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগের গ্রহণ করবো।

