বাড়ছে পানি, মুন্সীগঞ্জে নৌকা তৈরির ধুম

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৬ পিএম

মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলার মধ্যে ৫টিই নদীঘেঁষা। উপজেলাগুলোর বেশির ভাগ নিচু জমি বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে ভরে টইটম্বুর হয়ে যায়। এ মৌসুমে বাড়িগুলোর নিচে পানি দিনরাত তুলে কলকল ধ্বনি। যেখানে পাওয়া যায় প্রচুর দেশি মাছ। 

ওইসব জলমগ্ন এলাকাগুলোতে ছোট ছোট ডিঙি কিংবা কোষা নৌকা চলাচলসহ বিভিন্ন কাজের একমাত্র ভরসা। তাই উপজেলাগুলোর আনাচে-কানাচে এখন পড়েছে ছোট নৌকা তৈরির ধুম। 

লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখানের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মাঝি ও মিস্ত্রিরা। আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে গৃহস্থালি কাজে এবং খেয়া পারাপারে ও গো-খাদ্যের জন্য এ সময়ে কোষা ও ডিঙি নৌকার কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ। 

এ সুবাদে লৌহজংয়ের গোয়ালীমান্ডা স্ট্যান্ডের পাশে গড়ে উঠেছে ডিঙি ও কোষা নৌকা তৈরি ও বিক্রির বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দসই নৌকা এখান থেকে কিনে থাকেন। 

এদিকে ইছামতি, ধলেশ্বরী নদী ঘেরা সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় অর্ধেক অংশ বর্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয়ে যায়। বর্ষা এলেই এই এলাকার মানুষ চলাচলের প্রধান বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহার করে। উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা নৌকা দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে।

এছাড়া বর্ষার শুরুতেই এলাকার মৌসুমি জেলেরা নৌকা দিয়ে রাত-দিন মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা নৌকার মাধ্যমে খেয়া পার হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ও স্কুল-কলেজ, হাটবাজারে যান। 

জেলার শ্রীনগর, লৌহজং, সিরাজদিখান উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইছাপুরা, রাজানগর, বালুচর, কালীনগর, কৃষ্ণনগর, চরবয়রাগাদী, পাইনারচর, শেখরনগর, ভাড়ারিয়া, মধ্যপাড়া, খারশুল, চিত্রকোট ইউনিয়নে নৌকার ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এসব গ্রামে প্রায় বাড়িতেই বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য একটি করে নৌকা রয়েছে। এক সময় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাল তোলা নৌকা চলতো। বিভিন্ন হাটবাজারে মালামাল আনা নেওয়ার জন্য গয়না, ডিঙি নৌকার ব্যবহার হতো। 

উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের নৌকার মিস্ত্রী এনামুল বলেন, নৌকা তৈরিতে বিশেষ কোনো কাঠ নির্দিষ্টভাবে ব্যবহার হয় না। আগে ভালো ভালো কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করতাম, এখন কড়াই, চাম্বল ও মেহগনি দিয়েই বেশি নৌকা তৈরি করি। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তেল, আলকাতরা, তারকাঁটা, গজাল, পাতাম লোহা ইত্যাদি লাগে। এগুলো নৌকাকে দীর্ঘ দিন টিকিয়ে রাখে। 

NJ
আরও পড়ুন