শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাবুল ফকির (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র গড়ে তুলে অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক নারী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলের দাতারাটিয়া গ্রামের হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী মোছা. খোরশেদা বেগমের হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন অলংকার অলৌকিক উপায়ে উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এভাবে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলে তাঁর রূপালী ব্যাংকের হিসাবের দুটি ফাঁকা চেকও নেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল ফকিরের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের পিতাম্বরপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মৃত সদর আলী। কোমর থেকে দুই পা না থাকায় তিনি সরাসরি ভুক্তভোগীদের সামনে না গিয়ে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাবুল ফকিরের হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন নান্দাইলের দাতারাটিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়া এবং বাবুলের নিজ এলাকার সাদ্দাম হোসেন কবিরাজ নামে দুই সহযোগী। তাঁরাই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কথিত অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রতারণার কার্যক্রম চালাতেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পুলিশ ও সিআইডির সাইবার অপরাধ ইউনিটের তথ্যের বরাতে জানা গেছে, বাবুল ফকিরকে এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও মানবিকতার সুযোগ নিয়ে জামিনে বেরিয়ে আসার পর তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নতুন সিম ও যন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার কার্যক্রম চালানো হতো বলেও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমন বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রতারক চক্রটিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
লংমার্চ শেষে জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
অপ্রতিম হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার আহ্বান এমপি মনিরুলের
জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে দাদির মৃত্যু