গ্রেপ্তা‌রের পর কারাগা‌রে হিরো আলম

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের থানা সংলগ্ন এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় এক মামলায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ সংক্রান্ত চিঠি সম্প্রতি আমাদের কাছে আসে। এর ম‌ধ্যে আমরা জান‌তে পা‌রি হিরো আলম নিজ এলাকায় অবস্থান করছে। আমরা তা‌কে গ্রেপ্তা‌রের প্রস্তু‌তি নি‌চ্ছিলাম। এর ম‌ধ্যে খবর পাই সে ঢাকায় চ‌লে যা‌চ্ছে। এরপর আমরা তার মোবাইলের ফোন লো‌কেশন ট্র‌্যাক ক‌রে তথ‌্য প্রযু‌ক্তির সহ‌যো‌গিতায়  তা‌কে ধাওয়া ক‌রে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় ব‌্যা‌রি‌কেড দি‌য়ে তা‌কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। পরে তা‌কে আদাল‌তে নেওয়া হয়। আদালত থে‌কে তা‌কে কারাগা‌রে পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি করেন। ওই দিন আদালতের বিচারক বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত শেষে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলম বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে এক মৌলভি ডেকে কবুল পড়িয়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত বছরের ১৮ এপ্রিল বগুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলমসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে মারধর করেন। এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে ওই নারীকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া সিনেমা তৈরির কথা বলে হিরো আলম ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

AHA
আরও পড়ুন