রাজশাহীতে ক্রমেই বাড়ছে হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা। রাস্তার ধার থেকে শুরু করে বিলাসবহুল ভবন সবখানেই ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে নামিদামি খাবার হোটেল। তবে ফুটপাত কিংবা রেস্টুরেন্ট সর্বত্রই ব্যবহার হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর তেল।
রাজশাহীর রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত ৮৭ ভাগ তেলই ক্ষতিকর। মাত্র ১৩ শতাংশ রেস্তোরাঁর ব্যবহার করে ভালো তেল। এদিকে ক্ষতিকর এসব তেল ব্যবহারে স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতির কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। শীঘ্রই এসব তেল ব্যবহার বন্ধ না হলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে বলেও ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

রাজশাহীতে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষা শুরু করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির গত এক মাসের প্রতিবেদনে এসব ফলাফল উঠে এসেছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ১৬ অক্টোবর ভেজাল ও নিম্ন মানের খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানানোর লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগের একটি ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার (নিরাপদ খাদ্য মোবাইল ল্যাব) চালু করা হয়। যেখানে ভোক্তারা নিজেদের আনা খাদ্য নমুনাও বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা পান। তবে গত এক মাসে কোনো গ্রাহকই স্বপ্রণোদিত হয়ে পরীক্ষা করতে আসেন নি। স্বেচ্ছায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নগরী ও জেলার বেশ কিছু স্থানে পরীক্ষা চালায়।
গত নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি জেলার গোদাগাড়ী ও পুঠিয়ায় ১৬টি হোটেল ও রেস্তোরাঁর তেল পরীক্ষা করে। এছাড়াও নগরীর ২২টি রেস্তোরাঁয় তেল পরীক্ষা করে। ওলিও টেস্ট কিটের মাধ্যমে তারা এসব পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলে ৮৭ ভাগ তেলেই ক্ষতিকর পোলার ম্যাটেরিয়াল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। যেগুলো ভ্রাম্যমাণ টিম তাৎক্ষণিক ধ্বংস করে। আর বাকি ২৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ তেল ক্ষতিকর বা ব্যবহারের অনুপযোগী। সেগুলোও পরবর্তীতে ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, আমরা আমাদের পরীক্ষাগারটি চালু করেছি। আমাদের এখানে সব মিলিয়ে ৩৮ ধরণের টেস্ট হয়। তবে বর্তমানে মোট ২৫টি টেস্ট হচ্ছে। বাকিগুলোর টেস্ট কীট আসলেই পরীক্ষা শুরু হবে। এরই মধ্যে আমরা তেল, দুধ, বেকিং সোডাসহ বেশ কিছু পণ্য পরীক্ষা করেছি। এরমধ্যে তেলে সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে টেস্ট করার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর পেলে আমরা তাৎক্ষনিকভাবে সেটি ধ্বংস করে দিচ্ছি। তবে কোনো ধরণের জরিমানা করছি না। সচেতন করছি মানুষকে যাতে এগুলো না কিনে। তবে জরিমানার প্রয়োগ না ঘটানো গেলে এটি থেকে পরিত্রান পাওয়া খুব একটি সহজ হবে না।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মাহবুবুর রহমান খান বাদশা বলেন, পোড়া তেল স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। পোড়া তেল খেলে প্রথমত এসিডিটি হলে, আলসার হবে, পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে, লিভারের সমস্যা হবে, হজমেরও অসুবিধা হতে পারে। যেহেতু এগুলো কিডনীতে ইনফকেশন হয়, এই তেল বেশি খেলে তাৎক্ষনিক কিডনী ফেল ও কম খেলে অল্প অল্প করে কিডনির সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও মুত্র থলিতে সমস্যা হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রথমত এগুলো প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে এটি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন থেকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সচেতন করতে হবে। কারণ অনেকেই এটি না বুঝে করে থাকে। এগুলো বন্ধ না করা গেলে মানবদেহের ক্ষতি বাড়বে।
