সরকারি গুদাম থেকে ২শ মেট্রিক টন চাল ও গম উধাও

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৯:১৫ পিএম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে মজুদকৃত প্রায় ২০০ মে.টন চাল ও গম উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন অভিযোগ পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ওই খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকীকে সিলেটে বদলি করা হয়। তার জায়গায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদ হাসানকে।

তবে বদলির আদেশ পাওয়ার পরেও তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করতে কালক্ষেপণ শুরু করেন। দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাকিব রেজওয়ানকে প্রধান করে ২২ মে ৫ সদস্যের কমিটি করে দেন জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক।

ওই কমিটি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন শেষে দেখতে পায় গুদাম থেকে ১৩১ মেট্রিক টন চাল, ৬৮ মেট্রিক টন গম ও ৩৪ হাজার ৯২৬টি খালি বস্তা গুদামে নেই। অবস্থা বুঝতে পেরে পালিয়ে যান খাদ্য গুদামে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী।

এ ঘটনায় ৪ জুন রাতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে পলাশবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক। পরে পাঠানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনে।

খাদ্য গুদাম পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক বলেন, গত ১৫ মে পর্যন্ত সব খাদ্যশস্যের পরিমাণ গুদামে ঠিক ছিল। তারপরে কি হয়েছে জানা নেই তার।

এরপর বৃহস্পতিবার (৬ জুন) পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মো. আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, গুদামে যা আছে তার হিসেব নিয়ে আমি যোগদান করেছি। আর কিছুই জানেন না তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান বলেন, চাল, গম ও খালি বস্তা উধাও হওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২০২৩ সালের মে মাসে পলাশবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী।

MHR/FI
আরও পড়ুন