সিলেটে কয়েকদিন থেকেই তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে। এরমধ্যে বেড়েছে লোডশেডিং। শহরাঞ্চলে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, গ্রাম অঞ্চলে দিন রাত মিলিয়ে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। একদিকে তীব্র গরম অন্যদিকে লোডশেডিং সবমিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম হচ্ছে, এতে করে বেড়েছে লোডশেডিং। গত সোমবার সিলেট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪১ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৯৮ দশমিক ৪ মেগাওয়াট। জেলায় ঘাটতি ছিল ৩০ শতাংশের কিছু বেশি। মঙ্গলবারও একই অবস্থা ছিল চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে মেডিকেলসহ বেশ কিছু জরুরি স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। এসব নানা কারণে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।
বিদ্যুতের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহর এলাকায় প্রতি এক ঘণ্টা পর পর লোড শেডিং হচ্ছে। আর গ্রামের দিকে অবস্থা আরও শোচনীয়। দিন-রাত মিলিয়ে অর্ধেক সময়ও পাওয়া যাচ্ছেনা বিদ্যুৎ।
কুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা মোসাব্বির আহমেদ বলেন, একদিকে তীব্র গরমে অন্য দিকে বিদ্যুৎ থাকছেনা। গরমের জন্য ঘরে থাকা দায়। দ্রুতই বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করতে হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২–এর আওতাধীন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা এলাকার বাসিন্দা ফজলে করিম বলেন, দিনে তো যেমন তেমন রাতে তো ঘরে থাকতেই হয়। দিনের বেলাতেও বিদ্যুৎ নেই, রাতেও থাকে না। কি যে শুরু হয়েছে। সারাদিনের কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে ঘরে ফিরি তখন বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক কষ্ট হয়। রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ থাকেনা। ভোরে বিদ্যুৎ চলে যায়। দিন রাতের কোন একটা সময় শান্তিতে থাকব তা হয় না।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. আক্তারুজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাচ্ছি। যার কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক (কারিগরি) বিশ্বজিৎ রায় জানান, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এলাকায় দুপুরে চাহিদা ছিল ৯৪ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ৬৩ মেগাওয়াট। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এলাকায় দুপুরে চাহিদা ছিল ৩২ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ২৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন, বুধবার সিলেট জোনে চাহিদা রয়েছে ২০৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৪৭ দশমিক ৮৪ মেগাওয়াট। জোনে চাহিদার তুলনায় ২৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। আর জেলায় চাহিদা রয়েছে ১৫৪ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১০৬ দশমিক ৩৯ মেগাওয়াট। জেলায় ৩০ দশমিক ৯১ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সুরমা বয়েজ ক্লাবের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখা, সিলেট মহানগর ও জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সিলেট বিভাগে ১৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও পুরো বিভাগের ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছে সিলেটবাসী। সিলেটবাসীর প্রতি এরকম চরম বৈষম্য বন্ধ করতে হবে। সিলেটে সর্বনিম্ন বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে হবে। অবিলম্বে সিলেটে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে করে বলেন নেতৃবৃন্দ, প্রয়োজনে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করা হবে। এতে করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা এড়াতে অবিলম্বে বিদ্যু সমস্যার সমাধান করতে হবে।
