সরকারবিরোধী চক্রান্ত: সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা রিমান্ডে

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

​সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

আসামিরা হলেন— লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক (নি.) শেখ বশির আহমেদ প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। 

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

এদিন বিকেল ৫টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এজলাসে নেওয়া হয় তাদের। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাওয়ার কারণ আদালতকে অবহিত করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্র পক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করছিলেন।


​
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে ফেসবুক পেজ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন তারা।

​রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২০১৮ সালে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন এবং পরবর্তীতে ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেন। তদন্তে তাদের সাথে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্যও পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

​যে ৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়—
​১. অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য।
২. রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত দেশি ও বিদেশি চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে।
৩. ঘটনার পেছনে জড়িত অন্যান্য ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস সন্ধানে।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামিদের দ্বারা পরিচালিত অন্যান্য রাষ্ট্রবিরোধী ওয়েবসাইট বা পেজের সন্ধান পেতে।
৫. মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধ করতে।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর মামলাটি দায়ের করেন।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত