রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।
রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হলো।
খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। নতুন করে বলা হয়, কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
এ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ঢাকায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্বলিত স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভবন ও জায়গা ভাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাতটি কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত কলেজ হিসাবে থাকবে। সংযুক্ত কলেজগুলোর পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে এই স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে।
একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা এসব কলেজকে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একাডেমিক হয়রানির অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন।
এ বছর ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করে। দুই সপ্তাহ পর তা গেজেট আকারে জারি হল।

