ঢাবির ভিসি পদে দুই নারী শিক্ষকসহ আলোচনায় ৭ জন 

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ চেয়ে আবেদন করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই পদে নতুন কাউকে নিয়োগ করা হবে। 

এরই মধ্যে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের শীর্ষ এই পদে কে আসতে পারেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন নারী শিক্ষকও।

জানা গেছে, ভিসি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ঘিরে আলোচনা চলছে। তারা হলেন- প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ; পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম; পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের দুই বার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দীর্ঘদিন শিক্ষক অধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় চাকরি থেকে অব্যাহতি ও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে চাকরি ফিরে পান।

এদিকে, সাদা দলের আরেক সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান কলা অনুষদের ডিন। তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আলোচনায় থাকা অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের মহাসচিব। তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী তিনি স্বপদে বহাল হন। 

এর বাইরে আলোচনায় দুই নারী শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে। একজন হলেন অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। অপরজন অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার (টফি)।

অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি)। তিনি ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদের মেয়ে। পাশাপাশি তিনি ঢাবি সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

অন্যদিকে নাম উঠে আসা অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার (টফি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক। সমাজকর্ম ও সামাজিক উন্নয়ন ইস্যুতে তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন-এর মহাসচিব। এছাড়াও শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব-এর প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে প্রায় তিন বছরের জন্য চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এর আগে নব্বইয়ের দশকে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রথম ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

HN
আরও পড়ুন