প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। যদিও পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এই পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অন্যদিকে প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার জন্য বরাদ্দ সময়ও একই অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তির জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

১. পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

২. পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।

৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না।

৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

৫. উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না।

৬. খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করতে হবে এবং তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে।

৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না।

৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না।

৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে।

১০. এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালে আচরণের নির্দেশিকায়-

পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।

প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।

প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না।

উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না।

উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন ও বিনষ্ট করা যাবে না।

NB/
আরও পড়ুন