আদ্-দ্বীন উইমেন মেডিক্যাল কলেজের বিদেশী শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও এমবিবিএস কোর্স সম্পন্নের পর আদ্-দ্বীন থেকেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার আবেদন নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মহাপরিচালকের কাছে গিয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যান। তারা তাদের শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপের বিষয়ে মানবিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেছেন, বাংলাদেশের আইন, বিধি-বিধান ও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা দাবি করেছেন, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার কারণে নিরপরাধ বিদেশী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তারা বলেছেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল শিক্ষার একটি গন্তব্য হওয়ায় ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে এসেছে। তারা বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান, সাশ্রয়ী খরচ, নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার প্রশংসা করেছেন।
আদ্-দ্বীন উইমেন মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে প্রায় ২০৯ জন বিদেশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যাদের অনেকেই ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মির থেকে এসেছেন।
তাদের মধ্যে ৩২ জন কাশ্মিরি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে আদ্-দ্বীন থেকে এমবিবিএসের সব অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন এবং কলেজ হাসপাতালে মেডিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত।
চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের জন্য তাদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
মহাপরিচালকের কাছে আবেদনে তারা বলেছেন, ইন্টার্নশিপ শেষে তারা ভারতে ফিরে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে চান। কিন্তু ভারতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ‘সাধারণত যে মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস সম্পন্ন করা হয়, সেই প্রতিষ্ঠানের অধীনেই ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।’
ফলে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের বর্তমান লাইসেন্স-সংক্রান্ত জটিলতা তাদের ইন্টার্নশিপ, নিবন্ধন এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ঠিক একই ভাষায় তারা মেডিক্যাল শিক্ষার মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন যেন তারা নির্বিঘ্নে এমবিবিএস সম্পন্ন ও এখান থেকেই ইন্টার্নশিপ করতে পারেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের (স্বাস্থ্যসেবা) মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে; কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চলবে, কারণ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে হাসপাতালের বিরুদ্ধে, কলেজের বিরুদ্ধে নয়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: রুবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও কলেজ বন্ধ হয়নি। শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কলেজকে অন্য কোনো হাসপাতালের সাথে সমঝোতা (এমওইউ) করে সেখানে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের মধ্যে জানাতে হবে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ কোথায় চলবে। তাদের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেটি মূল্যায়ন করা হবে।
সকালের ৯টার মধ্যে ১৫ জেলায় ঝড়ের আভাস
এমবাপের জোড়া গোলে ইরাককে হারালো ফ্রান্স
অপরাধের গ্রাফ বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে নিম্নমুখী
বিশ্বকাপে ১৮ গোলের মেসির কাছে সেরা কোনটি?
এবার ভারতে বাণিজ্যিক ভবনে আগুন, নিহত ১৪
মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা