৩১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই উপাচার্য

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাংশে প্রশাসনিক শূন্যতা ও স্থায়ী ক্যাম্পাসসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) নেই। একই সঙ্গে ৮৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি এবং ৪০টিতে ট্রেজারারের পদ শূন্য রয়েছে। এমনকি ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদই শূন্য।

ইউজিসির তথ্য বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ভিসি নিয়োগে ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ নিয়ে এমন অভিযোগ দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের প্রশ্ন সামনে এনেছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি ৫৪ বিশ্ববিদ্যালয়

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনো ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান ভাড়া করা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইউজিসির তথ্যমতে, দেশে মাত্র ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পেয়েছে। ফলে ৯৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থায়ী সনদ ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথমে সাময়িক অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ নেওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিপুলসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

১০৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ১৭ হাজার ৪৭৯

ইউজিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ১৭ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে পূর্ণকালীন শিক্ষক ১৩ হাজার ১৬৯ এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক ৪ হাজার ৩১০ জন।

পূর্ণকালীন শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক রয়েছেন ৯৫২ জন, সহযোগী অধ্যাপক ১ হাজার ১১৯ জন, সহকারী অধ্যাপক ৩ হাজার ৪১০ জন এবং প্রভাষক ৭ হাজার ৪৭৮ জন।

অন্যদিকে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিধারী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৬০৩ জন। ফলে মোট শিক্ষকের তুলনায় গবেষণায় উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা এখনো সীমিত।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষার মান শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও গবেষণামুখী শিক্ষক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পর্যাপ্তসংখ্যক যোগ্য শিক্ষক এবং শক্তিশালী একাডেমিক নেতৃত্ব ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকা, স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারা এবং স্থায়ী সনদ না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো বেসরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এসব ঘাটতি দ্রুত দূর করার পাশাপাশি ইউজিসির তদারকি আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এমএজেড
আরও পড়ুন