নারীদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে সহশিক্ষা চালু না করাসহ চার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ইডেন কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অনার্স-মাস্টার্সসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অনার্সে অতিরিক্ত হারে সিট কমানোর কথা শুনেছি। এতে বাংলাদেশের নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষা চালু করা হলে বয়সের ব্যবধানের কারণে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত হবে। এসব দাবিতেই মূলত তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
এসময় দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি হলো-
- যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে নারীদের উচ্চশিক্ষার জন্য ইডেন মহিলা কলেজের অনুরূপ শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা ও সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ইডেন কলেজে কোনো অবস্থাতেই সহশিক্ষা চালু না করা।
- অনার্সের সিটসংখ্যা অতিরিক্ত হারে কমানো যাবে না। যদি শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব না হয় তবে আনুপাতিক কিছু সিটসংখ্যা কমানো যেতে পারে। তবে উদ্দেশ্য এটাই থাকতে হবে সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে যত বেশিসংখ্যক নারীকে উচ্চশিক্ষার আওতায় আনা যায়।
- ইডেন মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট চালু করা যাবে না। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ইডেন কলেজ অন্য কলেজগুলোর তুলনায় এগিয়ে। এর অন্যতম কারণ এখানে শুধু অনার্স ডিগ্রি চালু আছে, শিক্ষার্থীরা সমবয়সী ও সমমনা। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট চালু হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বয়স ও প্রজন্মের একটা পার্থক্য তৈরি হবে। এতে বোঝাপড়ায় সমস্যা হবে, সর্বোপরি শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়া ও পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা রয়েছে।
- সর্বোপরি ইডেন মহিলা কলেজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর অনেক দেশেই নারীদের জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বাংলাদেশের সাড়ে আট কোটি নারীর জন্য একটিও নেই। ফলে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সরকারি ফ্যাসিলিটি।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না, যাতে করে বাংলাদেশে নারীদের উচ্চশিক্ষার পথ সংকুচিত হয় এবং সর্বোপরি নারীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।
চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নেবে কি না ভেবে দেখার বিষয়: সাধারণ সম্পাদক
