চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ঘোষিত ১৪টি কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
অপরদিকে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭২২১ ভোট, আর ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৪০৮৫ ভোট।
জিএস পদে শিবির সমর্থিত সাঈদ বিন হাবীব পেয়েছেন ৭২৯৫ ভোট, যেখানে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী শাফায়াত পেয়েছেন ২৪৩৩ ভোট।
অন্যদিকে এজিএস পদে ছাত্রদল মনোনীত আয়ুবুর রহমান তৌফিক পেয়েছেন ৬৪৩১ ভোট, আর শিবির সমর্থিত প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৪৬০৭ ভোট।
এর আগে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচনে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এবারের নির্বাচনে অংশ নেয় ১৩টি প্যানেল, মোট ২৩২ পদে প্রার্থী ৯০৮ জন।
নির্বাচনে ভোটারদের ৪০টি ভোট দিতে হয়েছে, এর মধ্যে ২৬টি কেন্দ্রীয় সংসদের এবং ১৪টি হল সংসদের পদে। সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে ভোট দেয়ার সময় নির্ধারিত থাকলেও কমিশন জানিয়েছে, ভোটাররা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভোট দিতে পেরেছেন।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যালট পেপারে, আর গণনা করা হচ্ছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী, আর ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৯৩ জন, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৪৭ জন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭,৫১৮ জন। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে ওএমআর পদ্ধতিতে গণনা শুরু হয়। হল সংসদের ফলাফল ভোটকেন্দ্রেই ঘোষণা করা হচ্ছে, আর কেন্দ্রীয় সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে অনুষদের ডিনদের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় সভাপতিদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় সংযুক্ত করা হয়েছে ছবি।
ভোটের দিনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শাটল ট্রেন ১১ বার করে শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেছে, পাশাপাশি ১৫টি বাসও চলাচল করেছে।
অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল গণনা চলছে।
চাকসু নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশ