দেশের সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর উপস্থাপক ও নির্মাতা এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত)। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মনোনীত তালিকায় সাত নম্বরে রয়েছে এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত)-এর নাম।
পুরস্কার ঘোষণার পর এদিন সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন হানিফ সংকেত। তিনি লেখেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করেছেন। এই অর্জন আমার একার নয়—যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার।
আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।’
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথা পোষণ করে তিনি লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। আমৃত্যু আমি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
এবার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মোট ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ মরণোত্তরভাবে এ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে হানিফ সংকেত ২০১০ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছিলেন। এছাড়াও ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ এবং ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’সহ দেশি-বিদেশি অনেক সম্মাননা পেয়েছেন উপস্থাপক, পরিচালক ও নির্মাতা হিসেবে খ্যাতনামা এই ব্যক্তি।
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান 
