লতা মঙ্গেশকরের বাংলাদেশের প্রতি ছিল বিশেষ টান

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪১ এএম

উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। শুধু ভারতের নয়, বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছেও তিনি ছিলেন এক আবেগের নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার সক্রিয় সমর্থন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে এসে গান পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে তার একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

লতা মঙ্গেশকরের দীর্ঘ জীবনকাল জুড়ে বাংলা গান এবং বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে তার গভীর সংযোগ ছিল। ১৯৫৬ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে ‘প্রেম একবারই এসেছিল জীবনে’ গানটি ছিল তার প্রথম বাংলা গান। এরপর অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গান উপহার দিয়েছেন তিনি। বাংলা উচ্চারণ নিখুঁত করতে এবং বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে তিনি পরিশ্রম করতেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লতা মঙ্গেশকর বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিভিন্ন স্থানে গান গেয়ে বাঙালি শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। সুনীল দত্তের সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গে কয়েকটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন। সেই বছর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘রক্তাক্ত বাংলা’তেও তিনি কণ্ঠ দিয়েছিলেন। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক সলিল চৌধুরীর সুরে ‘ও দাদাভাই মূর্তি বানাও’ শিরোনামের গানটি তার একমাত্র চলচ্চিত্রের বাংলা গান হিসেবে চিহ্নিত।

লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংগীতজগতে শোক নেমে আসে। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এত বড় মাপের শিল্পী, কিন্তু মানুষ হিসেবে ছিলেন খুবই বিনয়ী। লতা মঙ্গেশকর নাই, এটা ভাবাই যায় না।

২০১৭ সালে লতার বাসায় গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। তিনি জানান, রুনা লায়লার সহায়তায় তিনি লতাজির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। ৩০ মিনিট কথা বলার উদ্দেশ্য থাকলেও লতা তাকে আড়াই ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন।

লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠের বিশুদ্ধতা, আবেগ এবং শৈল্পিক উৎকর্ষ আজও কোটি কোটি সংগীতপ্রেমীকে মুগ্ধ করে। ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এই কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াণ করেছিলেন, তবে তার কালজয়ী গানগুলো আজও জীবন্ত রয়েছে।

NB/AHA
আরও পড়ুন