ভাইরাল সংক্রমণ ও দূষণে বাড়ছে ‘ভয়েস চেঞ্জ’ ঝুঁকি

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

বর্তমান ঋতুবদলের সময়ে শহরজুড়ে নতুন এক স্বাস্থ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির পাশাপাশি অনেকেরই কণ্ঠস্বর বদলে যাচ্ছে বা গলা বসে যাচ্ছে। সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে কণ্ঠস্বরের এই পরিবর্তন ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হলেও, এবারের প্রাক-বসন্ত মৌসুমে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অন্তত ২৫-৩০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত রাইনো ভাইরাস, প্যারা-ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং রেসপিরেটরি সিন্সিটিয়াল ভাইরাসের দাপটে শ্বাসনালীতে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি হচ্ছে। ইএনটি (নাক-কান-গলা) বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রমণের ফলে মানুষের ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্র ফুলে ওঠে, যেখানে ভোকাল কর্ড থাকে। বর্তমানে বায়ুদূষণের সঙ্গে এই ভাইরাল সংক্রমণ যুক্ত হয়ে প্রদাহকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যে, ভোকাল কর্ডের ফোলা ভাব সহজে কমছে না। ফলে কর্কশ বা ফ্যাসফ্যাসে শব্দ মাসাধিকাল স্থায়ী হচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে থাকছে শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্ট।

যাঁদের পেশাগত কারণে বেশি কথা বলতে হয়—যেমন শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, গায়ক বা বিক্রয় প্রতিনিধি—তাঁরা এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, গলার এই সমস্যার সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে ‘অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিস’ থেকে তা ‘ক্রনিক’ বা দীর্ঘমেয়াদী হয়ে যেতে পারে।

করণীয় ও পরামর্শ

  • ভয়েস রেস্ট: গলা বসে গেলে জোরে কথা বলা বা চিৎকার করা একদম উচিত নয়। কণ্ঠকে পূর্ণ বিশ্রাম দিতে হবে।
  • গরম পানীয়: বার বার কুসুম গরম জল, চা বা আদা-লেবু চা পান করলে গলায় আরাম পাওয়া যায়।
  • ভাপ নেওয়া: গরম জলের স্টিম বা ভাপ নিলে ভোকাল কর্ডের ফোলা ভাব দ্রুত কমে।
  • ধূমপান বর্জন: গলার টিস্যুকে সুস্থ রাখতে এ সময় ধোঁয়া ও ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সাধারণত ঘরোয়া যত্নে ও বিশ্রামে কণ্ঠস্বর ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি এক মাসের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বরের কর্কশ ভাব না কমে, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিরল ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা বা গলার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের কারণেও স্বরভঙ্গ হতে পারে। তাই অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

DR/SN
আরও পড়ুন