নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করতে প্রস্তুত জাতীয় সংসদ ভবন। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের কার্যক্রমও। নির্ধারিত সময়ে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে নিশ্চিত করেছে সংসদ সচিবালয় সচিব। আর নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে প্রত্যাশা জেগেছে সাধারণ মানুষেরও।
যেখানে সরকার আর বিরোধীদল মুখোমুখি হতো যুক্তিতর্কে, নীতির লড়াইয়ে, জনস্বার্থের প্রশ্নে। তর্ক থাকত, মতভেদ থাকত, কিন্তু সেই বিতর্কই গণতন্ত্রের প্রাণসঞ্চার করত। বহু বছর ধরে একপেশে কার্যক্রমের অভিযোগে যে সংসদ সমালোচনার মুখে ছিল, সেখানে আজ শোনা যাচ্ছে নতুন সূচনার প্রত্যাশা।
শেরেবাংলা নগরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবন এখন অপেক্ষায় নতুনদের বরণের জন্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। যেখানে প্রত্যাশা, সংসদ আবার হবে প্রাণবন্ত বিতর্ক ও জবাবদিহির মঞ্চ।
আগামী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শপথকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চলছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের কার্যক্রম।
নির্ধারিত সময়ে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তিনি জানান, নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংসদ ভবনের অভ্যন্তরের ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে অধিবেশন পরিচালনার জন্য কতটা প্রস্তুত সংসদ ভবন? এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংসদ সচিবালয় সচিব।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একইদিন বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। ফলে বিএনপির কাছে প্রত্যাশা বেড়েছে সাধারণ মানুষের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

