যে ৮ খাবার বাড়ায় স্মৃতিশক্তি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

ব্যস্ত জীবনে মনোযোগ ধরে রাখা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে অনেকেরই সমস্যা হয়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান রাখলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক কয়েকটি খাবার হলো—

তৈলাক্ত মাছ

স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকারেলসহ সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক গঠনে এ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমাণমতো মাছ খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে।

ডিম

ডিমে কোলিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কোলিন মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ডিমে থাকা প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বেরিজাতীয় ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরির মতো বেরিজাতীয় ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা মস্তিষ্কসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ। স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও প্রয়োজনীয়। তবে অন্যান্য খাবারের মতো এটিও পরিমাণমতো খাওয়াই ভালো।

সবুজ শাক

কেল, পালং শাকসহ বিভিন্ন গাঢ় সবুজ পাতাযুক্ত শাকে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ফোলেট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। নিয়মিত সবুজ শাক খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

সামুদ্রিক শৈবাল

সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন, ভিটামিন বি-১২সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ, আর ভিটামিন বি-১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত।

ডার্ক চকোলেট

উচ্চ কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেটে ফ্ল্যাভোনয়েডসহ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এতে সামান্য ক্যাফেইনও রয়েছে, যা সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে পারে। তবে চকোলেটে চিনি ও ক্যালরি থাকতে পারে, তাই অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

আখরোট

আখরোটে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অন্যান্য বাদামের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে আখরোট খেলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে মাছ, ডিম, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে সুষম খাবার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক।

নিউরো হেলথ অবলম্বনে

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত