সাংবাদিকতা শিক্ষার বাতিঘর অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ‘অনারারি প্রফেসর’ ড. সাখাওয়াত আলী খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কিছুদিন আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফিরেছিলেন। তবে রোববার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে ও দুই নাতিসহ অসংখ্য ছাত্রছাত্রী এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে প্রায় এক দশক তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সক্রিয় সাংবাদিকতা করেছেন। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি সেখানে পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত (সুপার নিউমারারি) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. সাখাওয়াত আলী খান কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একাধিকবার বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গবেষক হিসেবেও তিনি ছিলেন অনন্য। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রিয় বিষয় ছিল ‘সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন এবং ১৫টিরও বেশি দেশে আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।

DR
আরও পড়ুন