গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে আইনি সুরক্ষা এবং উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। নতুন এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের আদেশ দিতে পারবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যমান ‘দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে মৃত ধরে নেওয়ার জন্য সাধারণত সাত বছর নিখোঁজ থাকার বিধান রয়েছে। তবে নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশের ২৩ ধারা অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। গুম হওয়ার পাঁচ বছর পূর্ণ হলে পরিবারের সদস্যরা সরাসরি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদনের সত্যতা যাচাই করে সম্পত্তি বণ্টনের চূড়ান্ত আদেশ দিতে পারবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে মামলা পরিচালনার পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা লড়তে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের অধিকারও পাবে। এছাড়া, মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতির যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবার সরাসরি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
নতুন অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যাদের নাম রয়েছে অথবা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’-এর অধীনে দায়ের হওয়া মামলায় যারা গুম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ পর্যন্ত জীবিত ফিরে আসেননি, কেবল তারাই এই আইনের আওতায় ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য হবেন।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই সংশোধনী এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না: প্রধান উপদেষ্টা
