আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতিতে সরকারের নির্বাচনি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের সাথে গণভোট যুক্ত হওয়ায় এবারের মোট নির্বাচনি বাজেট দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে শুধুমাত্র গণভোটের প্রচারণার জন্যই ছয়টি মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইসির বাজেট শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনি ব্যয়ের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হবে।
ইসির বাজেট শাখা থেকে জানা যায়, গণভোটের প্রচারে ছয়টি মন্ত্রণালয় মোট প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যবহার করবে। এর মধ্যে সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি, এলজিইডি ৭২ কোটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। চারটি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বরাদ্দ পেয়েছে। আর সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর অর্থ নেবে। এ ছাড়া ইসির নিজস্ব জনসংযোগ শাখা গণভোটের প্রচারে ব্যয় করছে ৪ কোটি টাকা।
ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রথমে সংসদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। পরে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর অর্থ মন্ত্রণালয় আরও ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়গুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় পাচ্ছে এবং তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রচারণা চালাচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় ব্যানার ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের প্রচারণা এখনো সীমিত। লিফলেট বিতরণ ও সরকারি অফিসে ব্যানার প্রদর্শনের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রচার সামগ্রী তৈরির কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ বা নির্দিষ্ট সুপারিশের প্রভাব কাজ করেছে।
মার্কিন দূতাবাস থেকে স্বতন্ত্র একটি দল ভোট পর্যবেক্ষণে যাবেন: ইসি
