ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ করে টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার পথ চিরতরে বন্ধ করে টেলিযোগাযোগ আইনে বড় ধরনের মৌলিক সংস্কার এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০০১ সালের ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন করে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এই নতুন আইনে ইন্টারনেট শাটডাউন বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে আইনি কাঠামোর বাইরে রেখে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার পোস্টে উল্লেখ করেন, অতীতে এই আইনের অপব্যবহার করে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, যা ছিল নিবর্তনমূলক। এই সংশোধন কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে দাঁড় করানোর একটি সাহসী পদক্ষেপ।

সংশোধিত আইনের প্রধান সাতটি বৈশিষ্ট্য:
১. ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ: বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষমতা আইনি কাঠামো থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে নাগরিকদের অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অর্থনীতির অধিকার আইনি সুরক্ষা পাবে।
২. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: আগে ‘হেইট স্পিচ’ বা ঘৃণামূলক বক্তব্যকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। এখন থেকে কোনো বক্তব্য কেবল তখনই অপরাধ বলে বিবেচিত হবে, যখন তার সাথে সরাসরি সহিংসতা উসকে দেওয়ার প্রমাণ থাকবে।
৩. বিটিআরসি-র ক্ষমতা বৃদ্ধি: মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কমিয়ে লাইসেন্স প্রদান, ট্যারিফ নির্ধারণ ও মনিটরিংয়ের অধিকাংশ ক্ষমতা পুনরায় বিটিআরসি-র কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৪. বিনিয়োগবান্ধব জরিমানা: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সব ধরণের জরিমানার পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
৫. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি-র কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কমিটি (কোয়াসি-জুডিশিয়াল) গঠন করা হয়েছে।
৬. সংসদীয় নজরদারি: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটির কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত হয়েছে।
৭. আন্তর্জাতিক মানের নজরদারি: আগের অস্বচ্ছ নজরদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ল’ফুল ইন্টারসেপশন’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। 

নজরদারিকে ‘জরুরি’ ও ‘অ-জরুরি’- এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রি-অ্যাপ্রুভাল ও পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ, কেস-বাই-কেস স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর, সময়সীমা নির্ধারণ, ইভেন্ট লগিং, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল- এই সবকিছু স্পষ্টভাবে কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সংস্কারকে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত