জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে এই প্রক্রিয়া চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আজ একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে ঐতিহাসিক গণভোট।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে মোতায়েন করা হয়েছে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। এ ছাড়া যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং অভিযোগের জন্য হটলাইন নম্বর ‘৩৩৩’ চালু রাখা হয়েছে।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে। সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি।

এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালটের মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে, যা মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ২০০৮ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক এবং ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষক। গণভোটের জন্য ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরই শুরু হবে গণনা। ইসি আশা করছে, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

HN/DR
আরও পড়ুন