পুনরায় চালু ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

দেড় বছরের বেশি সময়ের বিরতির পর আবার চালু হওয়ার পথে ঢাকা–আগরতলা–কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস যোগাযোগ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা জটিলতায় বন্ধ থাকা এই রুটে মঙ্গলবার পরীক্ষামূলক যাত্রার মধ্য দিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে দুই দেশের যাত্রী ও পরিবহন খাতে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘রয়েল মৈত্রী’ বাস সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলা প্রবেশ করে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে। পরীক্ষামূলক এই যাত্রাকে পরিষেবা পুনরায় চালুর প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভিসা জটিলতার কারণে বাসটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের সমন্বয়ে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঢাকা–আগরতলা–কলকাতা রুটের জিএম ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, আপাতত সপ্তাহে দুদিন বাস চলবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সপ্তাহে তিনদিন নিয়মিত পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই রুট চালু হওয়ার গুরুত্বও কম নয়। বর্তমানে আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতা যেতে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু ঢাকা হয়ে বাসে গেলে দূরত্ব কমে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারে নেমে আসে, ফলে সময় ও খরচ—দুইই সাশ্রয় হয়।

পরিষেবা পুনরায় চালুকে স্বাগত জানিয়েছেন মানিক সাহা। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, এই বাস সার্ভিস কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়—বরং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের সেতুবন্ধন। তাঁর মতে, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও জানান, পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত সবসময় বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দেখে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

AS
আরও পড়ুন