আয়ারল্যান্ডে ইসরায়েলি পণ্য নিষিদ্ধ, স্বাগত জানালো ইরান

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নির্মিত অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর আয়ারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। তেহরান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি 'বাস্তব উদাহরণ' হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আয়ারল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তকে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

'স্লোগান নয়, বাস্তব পদক্ষেপ'

ইরানি উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি তাঁর পোস্টে লিখেছেন,

"অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আয়ারল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে স্রেফ মুখের কথা বা স্লোগান থেকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ।"

তিনি ২০০৪ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) একটি পরামর্শমূলক মতামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

দখলদারিত্বে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বন্ধের আহ্বান

 

গারিবাবাদি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বের কোনো দেশেরই এই অবৈধ পরিস্থিতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বা তা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করা উচিত নয়। তিনি মন্তব্য করেন,

এসব অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা কোনো স্বাভাবিক ব্যবসা নয়।

এটি মূলত ইসরায়েলি দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং একটি অবৈধ পরিস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের শামিল।

তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে, বিশেষ করে যারা মুখে আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলে, তাদের নিজেদের ঘোষিত নীতিগুলো বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান। মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং বাণিজ্যিক লবির প্রভাব বা ইসরায়েলের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে এই ধরণের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

পুরো ইউরোপে নিষেধাজ্ঞা চায় আয়ারল্যান্ড

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সরকার একটি আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে, যার ফলে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা নিষিদ্ধ হবে।

এই প্রসঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী (সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হেলেন ম্যাকএন্টি জানান, ডাবলিন (আয়ারল্যান্ডের রাজধানী) শুধু নিজেদের দেশেই নয়, বরং পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) স্তরেও ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 

তাঁর মতে, পুরো ইইউ জুড়ে এই অবৈধ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাই হবে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো ও কার্যকর জবাব।

HN
আরও পড়ুন