২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালো লোডশেডিং , উৎপাদনে ধস

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
গ্রীষ্মের তীব্র চাহিদার মুখে বিদ্যুৎ উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না পৌঁছানোয় দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক জনজীবনে। সোমবার ভোর থেকেই এই ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
 
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে প্রায় ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিক সময়ে প্রয়োজনীয় উৎপাদন ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সংকট ভিন্ন মাত্রায় দৃশ্যমান। গাজীপুরে প্রায় ২৮ শতাংশ এবং সাভারে তা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। সিলেটে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। চট্টগ্রামে ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি বন্ধ রয়েছে, আর খুলনায় জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ১০টির মধ্যে ৬টি কেন্দ্র বন্ধ। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন কাঠামোতেই চাপ তৈরি হয়েছে।
 
চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান জেলাভেদে আরও স্পষ্ট। গাজীপুরে ৪৮৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। সাভারে ৩১৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে আসে ১৭৫ মেগাওয়াটে। সিলেটে মোট ৪৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে অনেক কম। খুলনায় ঘাটতি ১১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত ঘাটতি আরও কয়েকশ মেগাওয়াট।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। উদ্যোক্তারা বলছেন, অনিয়মিত বিদ্যুতের কারণে উৎপাদন পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে এবং রপ্তানি নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। সাভারের ট্যানারি খাতে চামড়া সংরক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখা যায় না।
 
একইভাবে বগুড়ার প্লাস্টিক শিল্পে উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, যন্ত্র একবার বন্ধ হয়ে গেলে তা পুনরায় চালু করতে সময় লাগে, ফলে উৎপাদন চক্র ব্যাহত হয়। সিলেটের রেস্তোরাঁ খাতেও লোকসান বাড়ছে, কারণ বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকরা অর্ডার বাতিল করে চলে যাচ্ছেন।
 
পর্যটন খাতও এই সংকট থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কুয়াকাটায় হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ডিজেল সংকটের কারণে জেনারেটর চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের এই অস্থিরতা এখন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বহুমাত্রিক চাপ তৈরি করছে।
AS
আরও পড়ুন