যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি: দেশের অর্থনীতিতে দিগন্ত

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী সুযোগ।

চুক্তিটি শুধু পোশাক শিল্পেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানী নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) সংসদে গাজীপুর–৫ আসনের একেএম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বক্তব্য দেন।

রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনসিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে; মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানি কার্যক্রম চলছে।

চট্টগ্রাম–১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতায় সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শপথ গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরাকান আর্মি প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা অতীতে ঘটেনি।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন বহুমাত্রিক। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশ, কৃষিপণ্য রপ্তানি, এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন