৮ রং ফর্সাকারী ক্রিমে ‘ভয়াবহ মাত্রার’ মার্কারি, ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

বাজার থেকে সংগৃহীত ৮টি বিদেশি ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী স্কিন ক্রিমে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক ও অতিমাত্রায় ক্ষতিকর মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বিষাক্ত উপাদানের সত্যতা পাওয়ায় এসব পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, বিতরণ, মজুত ও ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রসাধনীতে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ পিপিএম হলেও পরীক্ষাগারে এসব ক্রিমে এর চেয়ে বহু গুণ বেশি বিষাক্ত মার্কারি পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ও চিহ্নিত হওয়া এসব বিদেশি পণ্যের মধ্যে ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ‘ডিউ বিউটি ক্রিম’-এ সর্বোচ্চ ১২৩.৩৭ পিপিএম এবং এসজে এন্টারপ্রাইজের ‘চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম’-এ ১২০.৩৯ পিপিএম মার্কারি ধরা পড়েছে। পাশাপাশি নুর এন্টারপ্রাইজের ‘নুর হোয়াইটেনিং ক্রিম’-এ ৮২.৭৬ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের ‘নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিম’-এ ৭৯.৭০ পিপিএম ও ‘নাভিয়া বিউটি ক্রিম’-এ ৫৯.৮২ পিপিএম, চীনের জিএলডিজেবি কসমেটিকসের ‘ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিম’-এ ৬৭.৪৯ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকসের ‘গৌরি বিউটি ক্রিম’-এ ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং কিউসিআই কোম্পানির ‘নিউ ফেস বিউটি ক্রিম’-এ ৪৪.৭২ পিপিএম মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের তথ্য অনু্যায়ী, লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে মান যাচাই ছাড়া দেশে প্রবেশ করা এসব ক্রিমের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাবলয় নষ্ট হওয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ ও অ্যালার্জি ছাড়াও কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এমনকি গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ছাড় নয়। অনুমোদনবিহীন ক্ষতিকর প্রসাধনী আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিএসটিআই নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, বাজার তদারকি অভিযান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জোরদার করেছে।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত