আন্দোলনের সংস্কৃতি নিয়ে গভীর আক্ষেপ শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

কথায় কথায় আন্দোলনের সংস্কৃতি নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার করার পরও সঠিক ধারায় ফিরে না আসতে পারা বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ৩৬ তারিখের এক ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সময়ে পার করার পর, যেখানে সবার একসঙ্গে কাজ করার কথা, সেখানে কথায় কথায় আন্দোলনে নামেন। আমরা যাবো কোথায়? 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলানগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলেন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। 

মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, পরীক্ষা নেওয়া বা না নেওয়া কিংবা পাস করানো বা না করানোর মতো প্রতিটি সাধারণ বিষয়েই বারবার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হচ্ছে।  তিনি নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের পাস-ফেল করানোর দায়িত্ব কি আসলে তারওপর বর্তায়?

গতকাল প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত গতকাল এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন বিকেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যেখানে ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের মতো বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চিন্তা নিয়ে মন্ত্রণালয় মগ্ন রয়েছে, সেখানে কাজ করতে না দিয়ে উল্টো আন্দোলনের নামে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার গঠনের মাত্র পাঁচ মাস পার হতে না হতেই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অজুহাতে আন্দোলন সৃষ্টির এই অপচেষ্টাকে তিনি বিগত পাঁচ বছর নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা প্রায় দুই হাজার শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে অন্তত কয়েকটা দিন ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। 

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের আগেই নথি ফাঁসের মানসিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের একটি সাধারণ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা সম্পন্ন হওয়ার পর খসড়া রেজুলেশন তৈরি করা হয়েছিল। প্রস্তাবের শেষ অংশে স্পষ্ট লেখা ছিল যে, মাননীয় মন্ত্রী কর্তৃক সংশোধনের পর এটি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সেই খসড়াটি তাঁর টেবিলে পৌঁছানোর আগেই মন্ত্রণালয়ের ভেতর থেকে কোনো এক 'গুপ্ত বাহিনী' তা চুরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। নথির শেষ পাতায় যে সংশোধনের নির্দেশনা ছিল, তা আড়াল করে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে যা আমাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ।

AHA
আরও পড়ুন