বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান

ভারত-আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ সন্ত্রাসী নিহত

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ এএম

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে গত ৯৬ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শনিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এসব তথ্য জানায়। তবে ইসলামাবাদের এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কাবুল ও নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশের পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ২৮ জন সন্ত্রাসী নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগান বাহিনী।

আফগানিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এটিকে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোথাও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার দাবি ইসলামাবাদ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া কিংবা আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগও বানোয়াট বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ। তবে ভারত ও আফগানিস্তান উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। টিটিপি কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপির সদস্যদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় অংশ টিটিপি চালিয়েছে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ বলে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের দাবি, হামলাগুলো শুধু শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এসব স্থাপনা ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

আফগান তালেবানকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

ওয়াইএ
আরও পড়ুন