পে স্কেলের প্রস্তাব এবার যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উঠতে পারে বলে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামো ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে সরকারকে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারের ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে এটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকার পে স্কেল বাতিল বা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত না রেখে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর। এ সময়ে নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মূল বেতন বাড়তে পারে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন বাড়তে পারে ৮২ হাজার টাকা।

তবে কমিশনের সুপারিশের পরও বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বর্তমানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার।

নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, সেটিই এখন অন্যতম বড় প্রশ্ন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

এ কারণে পুরো বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে অনুমোদন পাবে, এরপর কত দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কমিশনের সুপারিশের কতটা বাস্তবায়ন হবে—এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

AHA
আরও পড়ুন