হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হামলার ঘটনাটি ঘটলেও এতদিন তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসি নিউজ তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন মেরিনদের ব্যবহৃত একটি নৌযানে আঘাত হানে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং টিমের অংশ হিসেবে ওই নৌযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তবে নৌযানটি মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ ছিল না। কর্মকর্তারা নৌযানটির ধরন বা পরিচয় প্রকাশ করেননি।
হামলায় আহত মেরিনদের মধ্যে কয়েকজন ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (TBI)-এর লক্ষণ দেখা যায়। এর মধ্যে মাথাব্যথাসহ কনকাশনের উপসর্গও ছিল।
তবে কারও আঘাত গুরুতর ছিল না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর সবাই দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান।
NBC News জানিয়েছে, হামলার সময় বা এর পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ঘটনাটি প্রকাশ করেনি। এমনকি ওই হামলায় মার্কিন সেনারা আহত হওয়ার বিষয়টিও আগে প্রকাশ্যে আসেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহত নিয়ে পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্যেও নতুন করে আটজনের নাম যুক্ত হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে ৮৬১ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় আহত আট মেরিনের তথ্য প্রকাশের পর তাদেরও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ হামলার প্রায় ১০ দিন পর ঘটনাটি মার্কিন সামরিক হতাহতের পরিসংখ্যানে যুক্ত হলো।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাতের যেকোনো ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
১৪ সেপ্টেম্বরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় হরমুজে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও ইরানের জাহাজবিধ্বংসী সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে হামলাটি ঠিক কোন ধরনের নৌযানে হয়েছিল, সেটি কী ধরনের মিশনে অংশ নিচ্ছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি কীভাবে প্রতিহত করা হয়েছিল বা প্রতিহত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাননি।
ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্ট্রাল কমান্ডের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতিও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং ইরানের হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য এখনো সীমিত। তবে ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ—দুটিই তীব্র হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি’, গ্রেপ্তার ৫
দুই মাসে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, বাড়লো তেলের দাম